নিশিনারী

নিশিনারী

ফারিহা সুলতানা অমি .

“এখনই শুরু করবে নাকি ভাবতে আরো সময় নেবে?” -সোজাসুজি রাতুলের দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল নিশি।

রাতুল কিছুটা বিভ্রান্ত, ঠিক কি বলা উচিৎ ও বুঝতে পারছেনা। ছোট্টো একটা হু বলেই তাই কাজ সেরে নিল।

-এ পাড়ায় আজকে প্রথম এলে বুঝি?

-হ্যাঁ, তুমি কি করে বুঝলে?

-প্রথম প্রথম সবাই তোমার মতোন ই এমন করে! পরে একবার যখন শরীরের নেশা বুঝে যায় তখন আর এইসব ভালোমানুষি থাকে না!

-না না! আমি সত্যিই ওমন ছেলে নই।

-হ্যাঁ তোমরা কেউই অমন ছেলে নও! তবে সেটা শুধু ততক্ষণ যতক্ষণ না তোমরা পুরুষ হউ! বুঝলে দুধের শিশু? বলেই হো হো করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো নিশি!

রাতুলের কেমন ভয় হল ওর হাসি শুনে, মনে হল যেন এই এখনই বুঝি হাসি দিয়ে পৃথিবীকে জানিয়ে দেবে ও এখানে এসেছে। ও তো সত্যিই আসতে চায়নি, আজ হোস্টেলের ছেলেগুলোর সাথে দু’পেগ বেশি হয়ে গেছে, তাই নেশার ঘোরে….

-কি গো! শুরু করবে না নাকি? আরে বাপু এখন আয়ের সময়। তোমার মত একটা খদ্দের নিয়ে থাকলে আমার হবে?

-ইয়ে মানে…

-কি? টাকা দিলে, দাম নেবে না?

-আচ্ছা তোমায় বলি, আমি আসলে নেশার ঘোরে এখানে এসেছিলাম। আমি কখনোই এসব চাইনি, ওরা কয়েকজনে চ্যালেঞ্জ দিল তাই মানে….

-যাক বাবা! তাও তো ভালো আমার এখানে এলে! নাহলে আবার কোন ভদ্দোরনোক ঘরের মেয়ের ওড়না ধরে টান দিতে কে জানে!

-না না, আমি মোটেই ওরকম ছেলে না! আজ একটু বেশি নেশা হয়ে গেল আর ওরাও ওরকম জেদ ধরিয়ে দিল বলে…

-কি বলছো! নেশা তো তোমার এখন শুরু হবে! ওসব তো ছাইপাশ! আসল নেশা নারী! যে পায় সে রাজা, যে হারায় তার হাতে গাঁজা!

-আমার ভাল্লাগছে না এসব। তুমি কবে থেকে এ পাড়ায় আছো?

-ইশ! এই ছোকরা দেখছি আজকে আমায় একেবারে ডুবিয়ে ছাড়বে! বলি তুমি না থাকবে তো একেবারে বেরোও, টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছি। আরো খদ্দের আছে আমার। একে তো নতুন ছুড়িগুলো আসার পর আয়-রোজগার তেমন নেই !

হঠাৎ দিগ্বিদিক না দেখেই বিছানার ওপরেই হড়হড় করে পেটের মধ্যকার সমস্তটা উগরে দিল রাতুল। পরের কয়েক মিনিট শুধু নিশির অকথ্য গালিগালাজের কিছু অংশ ওর কানে গেল, তারপর একেবারে শুনশান নীরবতা।

পরদিন দুপুরে ঘুম ভাঙার পর রাতুলের কয়েক মিনিট লাগলো কোথায় আছে, গত রাতে কি কি হয়েছে এসব ভাবতে ভাবতে। তারপর যখন বোধটা সম্পূর্ণ ফিরে এল তখন হঠাৎ পাপবোধটাও ওকে তাড়া দিল-এ যে নিষিদ্ধ এলাকা! রাতের আঁধারে সব চলে কিন্তু দিনের আলোতে এখন ও এখান থেকে বেরোবে কিভাবে? এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখলো আটপৌরে শাড়িতে একটা মেয়ে আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকলো, হাতে ট্রে-তে কিছু খাবার আর জুস। রাতের ঝিকিমিকি সাজের আড়ালে এই আটপৌরে নিশিকে চিনতে রাতুলের কয়েক মুহুর্ত দেরী হলো।

-কি ! ঘুম ভাঙল? আমি তো ভাবলাম এবার তোমায় এসে ঠেলে উঠিয়ে দেবো!

-কাল রাতে আমাকে বাইরে ফেলে এলে না কেন? তোমার তো খুব লস করিয়ে দিলাম আমি।

-ষাট! একটা অসুস্থ মানুষকে ফেলে আসা যায় নাকি, তোমাদের ওদিককার সমাজ থেকে কি মানবতা নামক চিজ উঠে গেছে, নাকি কেউ ব্যবহার করো না?

-হাসালে! বেশ্যার মুখে আবার এসব কথা!

মুচকি হেসে নিশি খাবারের ট্রে-টা রাতুলের সামনে দিয়ে বললো-“এবার খেয়ে আমায় উদ্ধার করো দেখি! খুব জ্বালিয়েছ বাবা কাল রাত থেকে! তোমায় পরিষ্কার করা, বিছানা-কাঁথা বদলানো, আবার এসব খাবার বানানো! এবার খেয়ে ঘাপটি মেরে বসে থেকে সন্ধ্যে নামলে বিদেয় হউ দেখি। আর পারিনে!”

আনমনেই যেন রাতুল হঠাৎ বলে বসল-“এতোকিছু করার কি দরকার! তুমি না বেশ্যা?”

সকালের প্রথম সূর্যের মতো শান্ত দু’টো চোখ রাতুলের চোখে দৃষ্টি দিয়ে একদম সেঁধিয়ে নিশি বলল-“আমি নারী, পেটের দায়ে যা কাজ পেয়েছি করেছি। খেয়ে বিদেয় হউ। আজকে সন্ধ্যেয় আবার বড়কর্তার আসার কথা আছে!”

Share


Author

shoptoborna

Comment Now

One response to “নিশিনারী”

  1. Mithun says:

    ভালো লেগেছে। তবে সমাপ্তি টা একটু অগোছালো মনে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *